AIBookCraft
Explore stories

About this book

সত্যের উদঘাটন

গোয়েন্দাগিরি
Views

2

Likes

0

Chapters

3

Comments

0

উন্মোচন your own detective novel.

Share this book

https://aibookcraft.app/s/sys~web~story-mrq3modr?lang=en

XFacebookThreads

Posting is completed in the app you choose.

Chapters

  1. 2দ্বিতীয় অধ্যায়: সন্দেহের জালরাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। পুরো বাড়ি যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু ডিটেকটিভ রেহানের মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ডায়মন্ড কোথায় গেল? চোর কি এখনও এই বাড়িতেই আছে? নাকি অনেক আগেই ডায়মন্ড পাচার হয়ে গেছে? রেহান আবার সেই হুমকির চিঠিটি হাতে নিল। গ্লাভস পরে কাগজটি পরীক্ষা করল। কাগজের এক কোণে খুব ক্ষীণ একটি আঙুলের ছাপ দেখা গেল। সে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে সেটি পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে দিল। এরপর সে বাড়ির সবাইকে আবার ড্রয়িংরুমে ডাকল। সবাই এক সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। আলবা উদ্বিগ্ন। লারজ শান্ত থাকার অভিনয় করছে। ড্রাইভার রবি, দারোয়ান করিম, মালী সোহেল, রাঁধুনি শামসু এবং দুই গৃহকর্মীও উপস্থিত। রেহান ধীরে ধীরে সবার দিকে তাকিয়ে বলল, "আজ আমি কাউকে গ্রেপ্তার করব না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, চোর এই ঘরেই দাঁড়িয়ে আছে।" কথাটি শুনে সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগল। ঠিক তখনই রেহানের চোখে পড়ল—লারজের কপালে আবারও ঘাম জমেছে। সে কিছু বলল না। বরং হঠাৎ ড্রাইভার রবিকে প্রশ্ন করল, "গতকাল রাত বারোটার পরে তুমি কোথায় ছিলে?" রবি উত্তর দিল, "গ্যারেজে ছিলাম, স্যার।" "কেউ দেখেছে?" "দারোয়ান করিম।" করিমও একই কথা বলল। এরপর রেহান মালীর দিকে ফিরল। "তুমি?" মালী বলল, "আমি রাত দশটার পরই কর্মচারীদের কোয়ার্টারে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।" রেহান সবার কথা মনোযোগ দিয়ে লিখে রাখল। হঠাৎ সে বলল, "লারজ সাহেব, আপনার অফিসরুমটা আরেকবার দেখতে চাই।" লারজের মুখের রং মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেল। "অবশ্যই... চলুন।" অফিসরুমে ঢুকে রেহান চারদিকে তাকাতে লাগল। বইয়ের আলমারি। একটি দামি ঘড়ি। একটি পুরোনো কাঠের টেবিল। আর দেয়ালে ঝোলানো একটি বিশাল ছবি। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল ছবিটির দিকে। ছবিটি একেবারে সোজা ঝোলানো নেই। একটু বাঁকা। রেহান ছবিটি নামিয়ে দেখল— পেছনে একটি ছোট ডিজিটাল সেফ! সবার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। লারজ তাড়াতাড়ি বলল, "ওটা পুরোনো সেফ। বহু বছর ধরে ব্যবহার হয় না।" রেহান কিছু বলল না। সেফ খুলতে বলল। সেফ খুলে দেখা গেল— ভেতরে কিছু পুরোনো কাগজ, কয়েকটি বিদেশি মুদ্রা এবং একটি কালো কাপড়। ডায়মন্ড নেই। কিন্তু কাপড়টি হাতে নিয়েই রেহান থমকে গেল। এটি ঠিক সেই ধরনের কাপড়, যেটি দিয়ে সহজে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলা যায়। সে কাপড়টি পরীক্ষার জন্য জব্দ করল। এমন সময় পরীক্ষাগার থেকে ফোন এল। হুমকির চিঠিতে পাওয়া আঙুলের ছাপ বাড়ির কোনো কর্মচারীর সঙ্গে মেলেনি। অর্থাৎ— চিঠিটি লিখেছে এমন কেউ, যার আঙুলের ছাপ পুলিশের রেকর্ডে নেই। রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠল। রাত গভীর হলো। রেহান ইচ্ছে করে ঘোষণা দিল, "আমি আজ বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। কাল আবার আসব।" সবাই ভাবল তদন্ত আপাতত শেষ। কিন্তু আসলে রেহান বাড়ি থেকে বেরিয়ে সামনের রাস্তা পার হয়ে একটি খালি বাড়ির ছাদে উঠে দূরবীন দিয়ে নজর রাখতে লাগল। রাত একটা। হঠাৎ সে দেখল— বাড়ির পেছনের দরজা আস্তে আস্তে খুলছে। কালো পোশাক পরা একজন মানুষ খুব সাবধানে বাইরে বেরিয়ে এলো। তার হাতে একটি ছোট টর্চ। লোকটি চারদিকে তাকিয়ে বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করল। রেহান দ্রুত ওয়াকিটকিতে পুলিশকে খবর দিল। সে নিজেও নিঃশব্দে লোকটির পিছু নিল। লোকটি বাগানের এক কোণে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। মাটি খুঁড়তে শুরু করল। ঠিক তখনই— রেহান চিৎকার করে উঠল, "একদম নড়বে না!" লোকটি চমকে উঠে দৌড় দিল। শুরু হলো রোমাঞ্চকর ধাওয়া। বাগান পেরিয়ে, গেট পেরিয়ে, অন্ধকার রাস্তায় ছুটতে লাগল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল। লোকটির মুখোশ খুলতেই সবাই অবাক হয়ে গেল... কারণ মুখোশের আড়ালে যে মুখটি দেখা গেল, তা এমন একজনের, যার নাম কেউ কল্পনাও করেনি। (চলবে...)
  2. 3তৃতীয় অধ্যায়: মুখোশের আড়ালে সত্যপুলিশ চারদিক থেকে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। পালানোর আর কোনো পথ নেই। ডিটেকটিভ রেহান ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলল, "মুখোশটা খুলে ফেলো।" লোকটি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে মুখোশ খুলল। সবাই অবাক হয়ে গেল। সে আর কেউ নয়—ড্রাইভার রবি। আলবা বিস্ময়ে বলে উঠল, "রবি! তুমি?" রবি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু রেহানের মুখে কোনো বিস্ময় নেই। বরং সে শান্ত গলায় বলল, "না... আসল চোর তুমি নও।" কথাটি শুনে সবাই হতবাক। পুলিশ অফিসারও অবাক হয়ে বললেন, "তাহলে ও রাতের অন্ধকারে এখানে কী করছিল?" রেহান রবির দিকে তাকিয়ে বলল, "সত্যিটা বলো।" রবি কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমি... আমি ডায়মন্ড নিতে আসিনি। আমাকে একজন এখানে পাঠিয়েছে। বলেছিল, বাগানের মাটির নিচে একটি বাক্স আছে। সেটা তুলে আনতে পারলে ২০ লাখ টাকা দেবে।" "কে বলেছে?" রবি ভয়ে চারদিকে তাকাল। তারপর নিচু গলায় বলল, "আমি নাম বলতে ভয় পাচ্ছি।" রেহান বলল, "ভয় পেও না। পুলিশ তোমাকে নিরাপত্তা দেবে।" রবি ধীরে ধীরে একটি নাম উচ্চারণ করল— "লারজ স্যার।" আলবা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। "না! এটা হতে পারে না!" কিন্তু রেহান তখনও কাউকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিল না। সে বলল, "শুধু একজনের কথা শুনে আমি কাউকে অপরাধী বলব না। আমার আরও প্রমাণ দরকার।" পরদিন সকালে রেহান আবার পুরো বাড়ি তল্লাশি শুরু করল। এবার সে সরাসরি লারজের ব্যক্তিগত অফিসে ঢুকল। ঘরের প্রতিটি জিনিস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা একটি দামী কলমে। কলমটি অস্বাভাবিক ভারী। সে কলমটি খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটি ছোট্ট কাগজ। কাগজে লেখা ছিল— "আজ রাত ১টা। পুরোনো বটগাছ। জিনিস নিয়ে এসো। পুরো টাকা পাবে।" রেহান হালকা হাসল। এটাই সেই সূত্র, যার জন্য সে অপেক্ষা করছিল। সে সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিকল্পনা করল। সারা দিন সে এমন ভাব করল যেন তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু রাত বারোটার পর থেকেই পুলিশ গোপনে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলল। রাত ঠিক একটা। লারজ খুব আস্তে করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। তার হাতে একটি কালো ব্যাগ। সে চারদিকে কয়েকবার তাকিয়ে নিশ্চিত হলো কেউ নেই। তারপর পুরোনো বটগাছের দিকে হাঁটতে লাগল। হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটি লোক বেরিয়ে এলো। "ডায়মন্ড এনেছ?" লারজ ব্যাগটি এগিয়ে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে— চারদিক আলোয় ভরে উঠল। "পুলিশ! কেউ নড়বে না!" চারদিক থেকে পুলিশ দৌড়ে এসে দুজনকে ঘিরে ফেলল। লারজ পালানোর চেষ্টা করতেই রেহান তার সামনে এসে দাঁড়াল। "খেলা শেষ, লারজ।" পুলিশ ব্যাগ খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো সেই ১০ কোটি টাকার নীল ডায়মন্ড। আলবা কেঁদে ফেলল। "তুমি এমন করলে কেন?" লারজ মাথা নিচু করে বলল, "আমার ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়েছিল। ঋণ শোধ করার কোনো উপায় ছিল না। তাই আমি পরিকল্পনা করে ডায়মন্ডটি লুকিয়ে রাখি। পরে একজন বিদেশি ক্রেতার কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।" রেহান শান্ত গলায় বলল, "তুমি একটি ভুল করেছিলে।" লারজ তাকাল। "যখন আলবা বলেছিল ডায়মন্ডটির দাম ১০ কোটি টাকা, তখন তোমার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গিয়েছিল। তারপর তুমি আমাকে বারবার স্টোররুমে যেতে বাধা দিয়েছিলে। পরে রবিকে দিয়ে প্রমাণ সরানোর চেষ্টা করেছিলে। আর শেষ পর্যন্ত সেই গোপন চিরকুটই তোমাকে ধরিয়ে দিল।" লারজ আর কোনো কথা বলতে পারল না। পুলিশ তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেল। আলবা নিজের বাবার স্মৃতিচিহ্ন ফিরে পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। সে রেহানের দিকে তাকিয়ে বলল, "আপনি শুধু আমার ডায়মন্ডই ফেরত দেননি, সত্যিটাও ফিরিয়ে দিয়েছেন।" রেহান মৃদু হাসল। "সত্যকে যত গভীরেই লুকিয়ে রাখা হোক, কোনো না কোনো সূত্র তাকে প্রকাশ করে দেয়।" সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। রেহান নিজের গাড়িতে উঠে নতুন এক অভিযানের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আর তার কেস ফাইলে যোগ হলো আরেকটি সফল তদন্ত— "হারিয়ে যাওয়া ১০ কোটির ডায়মন্ডের রহস্য।"

Want to write a story like this?

Learn the craft in our free AI story generator, then draft your first chapter with an AI co-writer.

Start my first chapter

What stayed with you?

Read a chapter and leave the author a comment.

Reader notes

Loading reader notes…

Privacy choices

Optional analytics help us improve AIBookCraft. They stay off until you allow them. Writing, sign-in, and checkout work either way.

Change this choice any time. Read our Privacy Policy.