Chapter 11
ষষ্ঠ লাইব্রেরি
তিনজন ধীরে ধীরে করিডোর পেরিয়ে ষষ্ঠ লাইব্রেরিতে প্রবেশ করল। দরজা পার হতেই— ধাম! পেছনের দরজাটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ একে একে জ্বলে উঠল অসংখ্য মোমবাতি। আলো ফুটতেই তারা যা দেখল, তাতে তাদের শরীর কেঁপে উঠল। পুরো লাইব্রেরিতে কোনো বই নেই। শুধু শত শত কালো মানুষের মতো ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাদের কারও মুখ নেই। তারা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আলেক্স, রোমা আর সানির দিকে। ঠিক তখনই সেই ভয়ংকর কণ্ঠস্বর আবার ভেসে এলো— "ষষ্ঠ লাইব্রেরিতে স্বাগতম..." "এখানে শক্তি নয়, বিশ্বাসের পরীক্ষা হবে।" "তোমাদের মধ্যে একজনকে নকল ছায়া নিয়ে যাবে।" "আসল বন্ধুকে চিনতে না পারলে—তিনজনেরই মৃত্যু।" "সময়—৩০ মিনিট।" কথা শেষ হতেই পুরো ঘর কেঁপে উঠল। হঠাৎ ঘন কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ধোঁয়া মিলিয়ে যেতেই... আলেক্স অবাক হয়ে দেখল— তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুটি রোমা! একই চেহারা। একই পোশাক। একই কণ্ঠস্বর। একই হাসি। অন্যদিকে সানি দেখল— তার সামনে দুটি আলেক্স। আর রোমা দেখল— দুটি সানি। তিনজনই বিভ্রান্ত হয়ে গেল। দুই রোমাই একসঙ্গে বলল, "আমি আসল রোমা!" দুই আলেক্স একসঙ্গে বলল, "আমাকে বিশ্বাস করো!" দুই সানিও একই কথা বলল। কার আসল, কার নকল—বোঝার কোনো উপায় নেই। সময় দ্রুত কমে আসছে। হঠাৎ আলেক্সের মাথায় একটি বুদ্ধি এল। সে চোখ বন্ধ করে বলল, "আমরা তিনজন একসঙ্গে প্রথম দিন কলেজে কী কথা বলেছিলাম, সেটা শুধু আসল বন্ধুরাই জানবে।" সে রোমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "প্রথম দিন তুমি আমাকে কী বলেছিলে?" একজন রোমা চুপ করে রইল। অন্যজন হেসে বলল, "হাই, আমি রোমা। এদিকে বসো, আজ থেকে আমরা বন্ধু।" আলেক্স বুঝে গেল—এটাই আসল রোমা। একইভাবে তারা সানিকেও চিনে ফেলল। আর যেই নকল ছায়াগুলো ধরা পড়ল... তারা বিকট চিৎকার করে কালো ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেল। ঠিক তখনই পুরো লাইব্রেরি কেঁপে উঠল। সামনের বিশাল বুকশেলফ ধীরে ধীরে দুই ভাগ হয়ে গেল। ভেতরে দেখা গেল একটি প্রাচীন কাঠের দরজা। দরজার ওপরে রক্তলাল অক্ষরে লেখা— "সপ্তম লাইব্রেরি" তিন বন্ধু একে অপরের দিকে তাকাল। তারা জানত... সবচেয়ে ভয়ংকর পরীক্ষাটি এখনো বাকি।