Chapter 7
হারানো প্রেমিকার ছায়া
ডায়েরির লেখা এবং গ্রামের মানুষের কথা থেকে রাতুল হারানো প্রেমিকার সম্পর্কে জানতে পারে। তার দুঃখের কাহিনি রাতুলকে স্পর্শ করে।
গ্রামের শান্ত, নিস্তরঙ্গ জীবনে রাতুল এক নতুন ঢেউ নিয়ে এসেছিল। দাদুর পুরনো ডায়েরিটা যেন এক জাদুর বাক্স, যা এক এক করে খুলে দিচ্ছিল এক হারানো প্রেমের গল্প, এক গভীর রহস্যের জাল। আগের অধ্যায়গুলোতে সে ডায়েরির সূত্র ধরে গ্রামের এদিক-ওদিক ঘুরেছে, পুরনো বাড়ি আর লুকানো বাগানের আনাচে কানাচে খুঁজেছে হারানো দিনের গন্ধ। গ্রামের বয়স্কদের সাথে কথা বলে জেনেছে কিছু পুরনো দিনের কথা, কিছু অস্পষ্ট ইঙ্গিত। কিন্তু এতদিন যা কিছু জেনেছে, তা ছিল কেবল গল্পের টুকরো টুকরো অংশ। আজ, এই অধ্যায়ে, রাতুল সেই গল্পের কেন্দ্রে থাকা মানুষটির, অর্থাৎ তার দাদুর হারানো প্রেমিকার, ছায়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
ডায়েরির পাতায় পাতায় কেবল তার দাদুর নিজের কথা নয়, বরং সেই হারানো প্রেমিকারও এক অস্পষ্ট ছবি ফুটে উঠছিল। রাতুল বারবার ডায়েরির সেই অংশগুলো পড়ছিল যেখানে তার দাদু তার প্রেমিকার কথা লিখেছিলেন। প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি দীর্ঘশ্বাস। "সে ছিল চাঁদের আলো, আমার আঁধারের জীবনে। তার হাসি ছিল ভোরের প্রথম আলোর মতো, যা সব মেঘ সরিয়ে দিত।" রাতুল অনুভব করতে পারছিল তার দাদুর সেই সময়ের গভীর ভালোবাসা। কিন্তু সেই ভালোবাসার সাথে মিশে ছিল এক অদ্ভুত বেদনা, এক অপূর্ণতার সুর।
একদিন, গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি, যিনি প্রায় একশো বছর ছুঁই ছুঁই, তিনি রাতুলকে ডেকে পাঠালেন। তাঁর কুঁড়েঘরটি ছিল গ্রামের এক প্রান্তে, বহু পুরনো এক বটগাছের ছায়ায়। ঘরের ভিতরটা ছিল আবছা অন্ধকারে ঢাকা, কিন্তু বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল পুরনো দিনের ধূপ আর ভেষজ ওষুধের এক মিশ্র গন্ধ। শতবর্ষী বৃদ্ধ, যার নাম ছিল হরিপদ কাকা, তিনি এক কোণে বসে ধীরেসুস্থে পান চিবোচ্ছিলেন। তার চোখেমুখে ছিল এক অপার শান্তি, কিন্তু সেই শান্ত চোখের গভীরে লুকিয়ে ছিল বহু বছরের অভিজ্ঞতা আর অনেক রহস্যের ছাপ।
Keep reading "হারানো প্রেমিকার ছায়া"
The full chapter is in the AIBookCraft app — free to read, with your spot saved.
Free on iOS & Android · No signup to read